মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

আমাদের অর্জনসমূহ

শিল্পকারখানা স্থাপন এবং আবাসন খাতে প্রতি বছরই ফসলী জমি কমলেও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে একর প্রতি উৎপাদন বৃদ্ধির কারণে খাদ্য শস্যের উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০০৮-০৯ হতে ২০১৭-১৮ সন পর্যন্ত খাদ্যশস্য উৎপাদন বৃদ্ধি ৭৮৭০ মে.টন (২.৩৫% বেশী) । শিল্পকারখানায় কর্মসংস্থানের কারণে এ জেলায় বহিরাগত লোকের সংখ্যা অনেক। তাই বিশাল এ জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা জেলায় উৎপাদিত খাদ্যে মেটানো সম্ভব হয়না বিধায় এটি একটি খাদ্য ঘাটতি জেলা। বর্তমানে এ ঘাটতি কমিয়ে আনার জন্য ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধির বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

 

কৃষি উপকরণ সহায়তা কার্ড বিতরণ ও কৃষকের ব্যাংক হিসাবঃ

কৃষকদের মধ্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ ও কৃষি ঋণ প্রদান সহজতর করার লক্ষ্যে কৃষি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ অনুযায়ী জেলার ১,৪১,৭৪৬ জন কৃষককে কৃষি উপকরণ সহায়তা কার্ড প্রদান করা হয়েছে এবং মাত্র ১০ টাকায় ১,০৬,৩৪৭ টি কৃষক ব্যাংক একাউন্ট খোলা হয়েছে।

 

কৃষি পুনর্বাসন ও প্রনোদনা কর্মসূচীঃ

কৃষি পুনর্বাসন ও প্রণোদনা কর্মসূচীর আওতায় ২০১৬-১৭ অর্থবছরে অত্র জেলায় ৫৭০ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ধৈঞ্চা চাষ, কুমড়া জাতীয় সবজির মাছি পোকা দমনে সেক্স ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার এবং তৈলজাতীয় ফসল সম্প্রসারণের জন্য বারি-১৪ জাতের সরিষা বীজ ও সার বিনামূল্যে প্রদান করা হয়েছে। ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচীর আওতায় ১০০০ জন কৃষককে সরিষা ও ১২ জন কৃষককে বিটি বেগুনের উপর বীজ এবং সার সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

 

মান সম্মত বীজ ব্যবহার বৃদ্ধিঃ

প্রকল্প সহায়তার মাধ্যমে চাষী পর্যায়ে ধান, গম, ভুট্টা, ডাল এবং সরিষা ফসলের বীজ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিতরণ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করা হয়েছে। ২০০৮-০৯ হতে ২০১৬-১৭ সন পর্যন্ত জেলায় বিভিন্ন ফসলের মান সম্মত বীজ ব্যবহার ৪৫% বৃদ্ধি পেয়েছে।

 

সার ব্যবস্থাপনাঃ

সুষম সার ব্যবহার নিশ্চিতকল্পে এবং উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে বর্তমান সরকার চার দফায় সারের মূল্য হ্রাস করে কৃষকের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে নিয়ে এসেছেন। কৃষকের দ্বার প্রান্তে সার পৌঁছানোর জন্য জেলার ৫টি উপজেলার বিভিন্ন ওয়ার্ডে ৪০১ জন খুচরা সার বিক্রেতা নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এছাড়াও মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সবুজ সার তৈরি সহ বিভিন্ন জৈবসার যেমন খামারজাত সার এবং ভার্মিকম্পোষ্ট তৈরির পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

 

সেচ ব্যবস্থাপনাঃ

সেচ ব্যবস্থাপনা উৎপাদন বৃদ্ধির একটি প্রধান কৌশল। বর্তমানে পানি ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের মাধ্যমে ফিতা পাইপ প্রদর্শনীর মাধ্যমে সেচের কমান্ড এরিয়া বৃদ্ধি করা হচ্ছে। সেচ পানির পরিবহন অপচয় রোধ করা হচ্ছে। ড্রিপ ইরিগেশন পদ্ধতি ব্যবহার করে সবজি ও ফল বাগানে সেচ প্রদানের মাধ্যমে সেচ পানির পরিবহন অপচয় ও মাঠ অপচয় কমানো হচ্ছে। অগভীর নলকূপে ভূগর্ভস্থ সেচনালা নির্মানের মাধ্যমে সেচের কমান্ড এরিয়া বৃদ্ধি করা হচ্ছে এর সেচের পরিবহন অপচয় কমানো হচ্ছে।  AWD  পদ্ধতি ব্যবহার করার ফলে ধান ক্ষেতে সেচ কম লাগছে এবং ধানের ফলন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

কৃষি ক্ষেত্রে বিভিন্ন যন্ত্রের ব্যবহার ফসলের উৎপাদন খরচ কমায়। তাই বর্তমান সরকার ৫০% ভর্তুকিমূল্যে বিভিন্ন কৃষি যন্ত্রপাতি প্রকৃত কৃষকদের মাঝে বিতরণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। গাজীপুর জেলায় ২০১৪-১৫ সনে ভর্তুকিমূল্যে ৬১ টি পাওয়ার টিলার কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।

 

শস্য বহুমূখীকরণ ও উচ্চমূল্য ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধিঃ

শস্য বহুমূখীকরণসহ উচ্চমূল্য ফসলের (ডাল, তৈল ও মসলা জাতীয় ফসল) উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য ৪% রেয়াতি হার সুদে কৃষি খাতে ঋণ বিতরণ করা হচ্ছে। এতে কৃষকগণ শস্য বহুমূখীকরণ ও উচ্চমূল্য ফসল চাষাবাদে উৎসাহিত হচ্ছে এবং উচ্চ মূল্য ফসল উৎপাদনের প্রযুক্তি সম্প্রসারিত হচ্ছে।

 

নিরাপদ সব্জি ও ফল উৎপাদনঃ

নিরাপদ সব্জি ও ফল উৎপাদনের লক্ষ্যে জেলার প্রতিটি উপজেলায় একটি করে ফল ও সব্জি গ্রাম নির্বাচনপূর্বক দল ভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রদানসহ প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে যা জেলায় নিরাপদ সব্জি ও ফল উৎপাদন নিশ্চিত করবে।

 

সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমঃ

ফসল উৎপাদনে বালাইনাশকের যৌক্তিক ব্যবহার নিশ্চিত এবং পরিবেশ দুষনমুক্ত রাখতে আইপিএম প্রযুক্তি প্রয়োগকে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

 

মৌ-চাষ সম্প্রসারণঃ

ফলন বৃদ্ধি,বেকারত্ব দূরীকরন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সরিষা ও লিচু বাগানে মৌবাক্স স্থাপন করে মৌচাষ সম্প্রসারনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ২০১৬-১৭ সালে গাজীপুর জেলার লিচু ও সরিষার জমিতে মৌবাক্স স্থাপনের মাধ্যমে প্রায় ২৮.৪৫ টন মধু উৎপাদিত হয়েছে।

 

ছবি


সংযুক্তি


সংযুক্তি (একাধিক)



Share with :

Facebook Twitter